
১৯০৬ সালে হাফেয আব্দুল্লাহ গাজীপুরী, হাফেজ আব্দুল আযীয রহীমাবাদী, শামসুল হক আযীমাবাদী, আব্দুর রহমান মুবারকপুরী, আয়নুল হক ফলওয়ারী, ছানাউল্লাহ অমৃতসরী 'অল ইন্ডিয়া আহলে হাদীস' নামে একটি দল গঠন করেন।
তারপর
১৯১৪ সালে মিয়াঁ নাযীর হুসাইন দেহলভী (১৮০৫-১৯০২) এর বাঙ্গালি ও আসামী ছাত্ররা 'আঞ্জুমানে আহলে হাদীস বাঙ্গালা ও আসাম' নামে আরেকটি দল গঠণ করেন।
তারপর
১৯৪৬ সালে "নিখিল বঙ্গ ও বা আসাম জমঈয়তে আহলে হাদীস" নামে আরেকটি দল গঠন করা হয়।
তারপর
১৯৪৭ সালে "পূর্ব পাকিস্তান জমঈয়তে আহলে হাদীস" নামে আরো একটি দল গঠন হয়।
তারপর
১৯৪৭ সালে "পূর্ব পাকিস্তান জমঈয়তে আহলে হাদীস" নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস”।
তারপর
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় "আহলে হাদিস যুবসংঘ"।
তারপর
ড. আসাদুল্লাহ আল-গালিব সাহেব 'জমিয়ত আহলে হাদিস' থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন "আহলে হাদিস আন্দোলন"।
তারপর
ড. মুসলেহ উদ্দিন 'আহলে হাদিস আন্দোলন' থেকে বের হয়ে করেন 'জামা'আতে আহলে হাদিস।
তারপর তাদের মধ্য থেকে আরো কিছু দল বের হয়।
যেমন: তাবলিগি আহলে হাদিস, গোরাবা আহলে হাদিস ইত্যাদি।
এবং এদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা গঠনতন্ত্র আছে; আছে আলাদা ইমারত ও ইতায়াত।
দেখতেই পাচ্ছেন এদের শুরু রাসুল (সা:) বা তাঁর সাহাবা (রা:) গণ থেকে নয়। এবং কি তারা যাদের থেকে 'আহলে হাদিস' এর দলিল দেয় (ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম শাফেয়ী, ইবনে তাইয়েমিয়াহ, শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী ইত্যাদি) এদের কারও থেকে এভাবে দলে দলে বিভক্ত হওয়া এবং 'আহলে হাদীস' শব্দ দিয়ে সতন্ত্র ইমারাত (আমির), সতন্ত্র ইতায়াত, সতন্ত্র গঠনতন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে সংগঠন/দল প্রমাণ নেই।
'আহলে হাদিস' শব্দ দিয়ে এভাবে সতন্ত্র ইমারাত (আমির), সতন্ত্র ইতায়াত, সতন্ত্র গঠনতন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে দলে দলে বিভক্তি শুরু হয়েছে উপ-মহাদেশে। যার শুরু ১৯০০ সাল এর পর থেকেই।
তাদের এভাবে দলে দলে বিভক্ত হওয়ার বর্তমান পরিণতি হল, তাদের এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে খুতবা/লেকচার দেয়। তাদের এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে বই রচনা করে। তাদের এক দল অন্য দলের জ্ঞানী আলেমদের ওদের মসজিদে ইমামতি করতে দেয় না। তাদের এক দল অন্য দলকে সব সময় হিংসা দৃষ্টিতে দেখে। তাদের এক দল অন্য দলের সম্পর্কে সমালোচনা করে থাকে। এর পরেও তারা দাবী করে তারা নাকি হক্বপন্থী, তারা নাকী 'জান্নাতী' দল।
তাদের আলেমরা বর্তমানে আরো একটি ফিতনা শুরু করল, তা হল, তারা তাদের দলের দিকে দাওয়াত দিতে গিয়ে সহীহ হাদীসের অর্থ বিকৃতি করে, এবং অর্থ বিকৃতির মাধ্যমে হাদিসকে অপব্যাখ্যা করে। যার প্রমাণ আমার কাছে বিদ্যমান।
তারা এভাবে দলে দলে বিভক্ত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে কুফুরীর গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। তা হল, তাদের অনেককে বলতে শুনা যায় যে,"আক্বিদা একই হলে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হতে সমস্যা নেই।" অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন,"তোমরা আল্লাহর রুজ্জুকে ধারণ কর ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।" (সুরা আলি ইমরান:১০৩)
তাদের আলেমরা বর্তমানে এটা নিয়ে আরেকটি অপব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করেছে যে,"আহলে হাদিসদের মানহাজ এক, আক্বিদাগত ভাবে তারা এক, কিন্তু নেতৃত্বগতভাবে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।" তারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, তাই দলে দলে বিভক্ত হওয়া জায়েজ। (নাউযুবিল্লাহ)
আসুন, আক্বিদা একই থাকা স্বর্তেও নেতৃত্বগতভাবে বিভক্ত হওয়া যাবে কি না এবং যদি বিভক্ত হয় তবে কি করতে হবে তা সহীহ হাদীস দ্বারা জেনে নিই:
তখন হযায়ফা (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল-জামা’আত থেকে পৃথক হয় এবং ইমারাতের (হুকুমাতের) অবমাননা করে সে আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় দাঁড়াবে যে, তার কোন অবস্থানই থাকবে না। (তাহক্বীককৃত মুসনাদে আহমাদ ৫/২৩৩৩১; হাসান)
রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: কেউ যদি তার আমীরের মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু লক্ষ্য করে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি আল-জামা'আত থেকে এক বিঘত দূরে যায় এবং এ অবস্থায় মারা যায়- এটা জাহেলী মৃত্যু বলে গণ্য হবে। (সহীহ মুসলিম/৪৬৩৯)
Comments
Post a Comment